"দুধ দাঁত তো পড়েই যাবে, চিকিৎসার দরকার কী?" — এটি সবচেয়ে ক্ষতিকর ভুল ধারণা। দুধ দাঁত শিশুর খাওয়া, কথা বলা ও স্থায়ী দাঁতের জায়গা ধরে রাখার জন্য অপরিহার্য। সময়ের আগে দুধ দাঁত নষ্ট হলে স্থায়ী দাঁত আঁকাবাঁকা হয়ে ওঠে এবং পরে ব্রেসেসের প্রয়োজন হয়।
আমাদের শিশু-বান্ধব সেবা
- ফ্লোরাইড অ্যাপ্লিকেশন: দাঁতের এনামেল শক্ত করে ক্ষয় প্রতিরোধ করে
- পিট অ্যান্ড ফিশার সিল্যান্ট: মোলার দাঁতের গর্তে পাতলা আবরণ দিয়ে খাবার জমা বন্ধ করা — ক্ষয়ের ঝুঁকি ৮০% পর্যন্ত কমায়
- দুধ দাঁতের ফিলিং: রঙিন বা দাঁতের রঙের ফিলিং
- পালপোটমি: দুধ দাঁতের রুট ক্যানেল — দাঁতটি পড়ার সময় পর্যন্ত টিকিয়ে রাখা
- স্পেস মেইনটেইনার: দুধ দাঁত আগে পড়ে গেলে জায়গা ধরে রাখার যন্ত্র
- আটকে থাকা দুধ দাঁত অপসারণ
শিশুর ভয় কাটাতে আমরা যা করি
প্রথম ভিজিটে সাধারণত কোনো চিকিৎসা করা হয় না — শুধু পরিচয়, চেয়ারে বসা ও যন্ত্রপাতি দেখানো হয়। আমরা Tell–Show–Do পদ্ধতি ব্যবহার করি: কী করা হবে সহজ ভাষায় বলা, দেখানো, তারপর করা। কখনো ভয় দেখিয়ে বা জোর করে চিকিৎসা করা হয় না — কারণ একবার ভয় পেলে সারাজীবন দাঁতের ডাক্তারের প্রতি আতঙ্ক থেকে যায়।
অভিভাবকদের জন্য পরামর্শ
- বোতলে দুধ খাইয়ে ঘুম পাড়াবেন না — এটি "বটল ক্যারিজ" নামে দ্রুত ক্ষয়ের প্রধান কারণ
- প্রথম দাঁত ওঠার পর থেকেই নরম কাপড় বা ছোট ব্রাশ দিয়ে পরিষ্কার করুন
- ৬ বছরের নিচে মটরদানার সমান, তার উপরে ছোলার সমান টুথপেস্ট যথেষ্ট
- ৭–৮ বছর বয়স পর্যন্ত শিশুর ব্রাশ করা তদারকি করুন — তারা একা ঠিকমতো পারে না
- চিনিযুক্ত খাবার ও জুস বারবার না দিয়ে নির্দিষ্ট সময়ে দিন
- শিশুর সামনে "ডাক্তার ব্যথা দেবে" জাতীয় কথা বলবেন না
প্রথম ভিজিট কখন
প্রথম দাঁত ওঠার ৬ মাসের মধ্যে, অর্থাৎ সাধারণত ১ বছর বয়সের মধ্যেই প্রথম ডেন্টাল ভিজিট হওয়া উচিত। এরপর প্রতি ৬ মাসে একবার।