দাঁতে জমে থাকা নরম প্লাক ২৪–৭২ ঘণ্টার মধ্যে শক্ত হয়ে ক্যালকুলাস বা পাথরে পরিণত হয়। এই পাথর ব্রাশ করে তোলা যায় না — এটি শুধু ডেন্টাল স্কেলার দিয়েই সরানো সম্ভব। পাথর জমে থাকলে মাড়ি ফুলে যায়, রক্ত পড়ে এবং ধীরে ধীরে দাঁতের গোড়ার হাড় ক্ষয় হতে থাকে।
স্কেলিং কীভাবে করা হয়
আমরা আল্ট্রাসনিক স্কেলার ব্যবহার করি, যা অতি উচ্চ কম্পাঙ্কের কম্পন ও পানির ধারা দিয়ে পাথর ভেঙে ফেলে। এতে দাঁতের এনামেলের কোনো ক্ষতি হয় না। পাথর সরানোর পর পলিশিং করা হয় — একটি রাবার কাপ ও বিশেষ পেস্ট দিয়ে দাঁতের উপরিভাগ মসৃণ করা হয়, যাতে নতুন করে প্লাক জমতে সময় লাগে।
স্কেলিং নিয়ে প্রচলিত ভুল ধারণা
- "স্কেলিং করলে দাঁত ফাঁকা হয়ে যায়" — ভুল। পাথর সরানোর পর আগে থেকেই থাকা ফাঁক দৃশ্যমান হয়। পাথরই সেই ফাঁক ঢেকে রেখেছিল এবং মাড়িকে ক্ষয় করছিল।
- "স্কেলিং করলে দাঁত দুর্বল হয়" — ভুল। আল্ট্রাসনিক স্কেলার শুধু জমে থাকা পাথরে কাজ করে, দাঁতের এনামেল স্পর্শ করে না।
- "একবার করলে বারবার করতে হয়" — ভুল। বারবার প্রয়োজন হয় কারণ পাথর আবার জমে — এটি স্কেলিংয়ের দোষ নয়।
স্কেলিংয়ের পর কী হয়
প্রথম ২–৩ দিন দাঁত সামান্য শিরশির করতে পারে, বিশেষ করে ঠান্ডা পানিতে। এটি স্বাভাবিক এবং নিজে থেকেই ঠিক হয়ে যায়। এই সময়ে ডিসেনসিটাইজিং টুথপেস্ট ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়। খুব ঠান্ডা বা খুব গরম খাবার ২–৩ দিন এড়িয়ে চলুন।
কত দিন পর পর করাবেন
সাধারণত ৬ মাস থেকে ১ বছর অন্তর। তবে যারা ধূমপান করেন, পান-সুপারি বা জর্দা খান, চা-কফি বেশি পান করেন কিংবা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত, তাদের ৪–৬ মাস অন্তর স্কেলিং প্রয়োজন হতে পারে।