দাঁতের ভেতরে থাকা নরম অংশকে বলে পাল্প — এতে স্নায়ু ও রক্তনালি থাকে। গভীর ক্ষয়, আঘাত বা ফাটলের কারণে জীবাণু পাল্পে পৌঁছালে তীব্র ব্যথা ও ফোড়া তৈরি হয়। রুট ক্যানেল ট্রিটমেন্টে সংক্রমিত পাল্প সরিয়ে ভেতরটা জীবাণুমুক্ত করে সিল করে দেওয়া হয়, ফলে দাঁতটি না তুলেই বাঁচানো যায়।
কখন রুট ক্যানেল লাগে
- রাতে বেড়ে যাওয়া তীব্র, ধুকধুকে দাঁত ব্যথা
- গরম বা ঠান্ডা সরিয়ে নেওয়ার পরও দীর্ঘক্ষণ শিরশিরানি থাকা
- মাড়ি ফুলে যাওয়া বা দাঁতের গোড়ায় ফোড়া/পুঁজ
- দাঁত কালচে হয়ে যাওয়া
- চিবানোর সময় বা চাপ দিলে ব্যথা
চিকিৎসা কীভাবে হয়
- এক্স-রে ও নির্ণয়: শিকড়ের গঠন ও সংক্রমণের বিস্তার দেখা হয়।
- অবশ করা: লোকাল অ্যানেস্থেসিয়া দিয়ে দাঁত ও আশপাশ সম্পূর্ণ অবশ করা হয়।
- রাবার ড্যাম: দাঁতটি আলাদা করে রাখা হয় যাতে লালা ও জীবাণু ভেতরে না ঢোকে।
- পাল্প অপসারণ ও ক্যানেল পরিষ্কার: সূক্ষ্ম ফাইল দিয়ে সংক্রমিত টিস্যু সরিয়ে ক্যানেল আকৃতি দেওয়া হয় ও জীবাণুনাশক দিয়ে ধোয়া হয়।
- সিলিং: গাটাপার্চা দিয়ে ক্যানেল ভরাট করে স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হয়।
- ক্রাউন: রুট ক্যানেল করা দাঁত ভঙ্গুর হয়ে যায়, তাই বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ক্যাপ/ক্রাউন বসানো অত্যাবশ্যক।
"রুট ক্যানেল খুব ব্যথার" — এটি কি সত্যি?
না। এই ধারণা পুরোনো পদ্ধতি ও অপর্যাপ্ত অ্যানেস্থেসিয়ার সময়কার। আধুনিক অ্যানেস্থেসিয়ায় চিকিৎসার সময় আপনি কিছুই অনুভব করবেন না। বরং যে তীব্র ব্যথা নিয়ে আপনি এসেছেন, রুট ক্যানেলই তার সমাধান। চিকিৎসার পর ২–৩ দিন সামান্য চাপ বা অস্বস্তি থাকতে পারে, যা সাধারণ ব্যথানাশকেই নিয়ন্ত্রণে থাকে।
দাঁত তুলে ফেলার চেয়ে রুট ক্যানেল কেন ভালো
নিজের দাঁতের বিকল্প নেই। দাঁত তুলে ফেললে পাশের দাঁত হেলে পড়ে, উল্টো দিকের দাঁত নেমে আসে, চোয়ালের হাড় ক্ষয় হয় এবং পরে ইমপ্লান্ট বা ব্রীজ করতে অনেক বেশি খরচ হয়। রুট ক্যানেল করা দাঁত সঠিক ক্রাউনসহ ১৫–২০ বছর বা আজীবন টিকতে পারে।