ক্রাউন বা ক্যাপ হলো একটি কৃত্রিম আবরণ যা ক্ষতিগ্রস্ত দাঁতকে সম্পূর্ণ ঢেকে রাখে। এটি দাঁতকে ভেঙে যাওয়া থেকে বাঁচায় এবং আকৃতি, রং ও চিবানোর ক্ষমতা ফিরিয়ে দেয়।
কখন ক্রাউন প্রয়োজন
- রুট ক্যানেলের পর — সবচেয়ে সাধারণ কারণ। চিকিৎসা করা দাঁত ভঙ্গুর হয়ে যায়।
- দাঁত অনেকখানি ভেঙে গেলে বা ফিলিং করার মতো যথেষ্ট অংশ না থাকলে
- দাঁতে ফাটল ধরলে
- ব্রীজের সাপোর্ট হিসেবে
- ইমপ্লান্টের উপর বসানোর জন্য
- খুব বিবর্ণ বা বিকৃত আকারের দাঁত সুন্দর করতে
ক্রাউনের ধরন
জিরকোনিয়া ক্রাউন
বর্তমানে সবচেয়ে ভালো বিকল্প। অত্যন্ত মজবুত, সম্পূর্ণ ধাতুমুক্ত এবং প্রাকৃতিক দাঁতের মতো স্বচ্ছ-উজ্জ্বল। সামনের ও পেছনের দুই জায়গাতেই উপযুক্ত। মাড়ির কাছে কালো দাগ পড়ে না।
পোরসেলিন ফিউজড টু মেটাল (PFM)
ভেতরে ধাতুর কাঠামো, বাইরে পোরসেলিন। মজবুত ও তুলনামূলক সাশ্রয়ী। তবে দীর্ঘদিন পর মাড়ি সরে গেলে গোড়ায় কালচে রেখা দেখা দিতে পারে।
মেটাল ক্রাউন
সবচেয়ে টেকসই ও কম দাঁত কাটতে হয়। রঙের কারণে প্রধানত একদম পেছনের দাঁতে ব্যবহৃত হয়।
প্রক্রিয়া
প্রথম ভিজিট: দাঁত অবশ করে ক্রাউনের জায়গা তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় পরিমাণ কেটে আকৃতি দেওয়া হয়, ছাপ নেওয়া হয় এবং অস্থায়ী ক্রাউন বসানো হয়। দ্বিতীয় ভিজিট (৭–১০ দিন পর): ল্যাব থেকে তৈরি হয়ে আসা স্থায়ী ক্রাউন ফিটিং, রং ও কামড় পরীক্ষা করে ডেন্টাল সিমেন্ট দিয়ে স্থায়ীভাবে বসানো হয়।
যত্ন
ক্রাউন করা দাঁতেও নিয়মিত ব্রাশ ও ফ্লস করতে হবে — ক্রাউনে ক্ষয় না হলেও এর প্রান্ত ঘেঁষে আসল দাঁতে ক্ষয় হতে পারে। খুব শক্ত জিনিস কামড়ানো এড়িয়ে চলুন। ভালো যত্নে ক্রাউন ১০–১৫ বছর বা তারও বেশি টিকে।