আক্কেল দাঁত বা থার্ড মোলার সাধারণত ১৭–২৫ বছর বয়সে ওঠে। চোয়ালে পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় এগুলো প্রায়ই আংশিকভাবে বা বাঁকা হয়ে ওঠে — একে বলে ইমপ্যাক্টেড আক্কেল দাঁত।
আক্কেল দাঁতে কী কী সমস্যা হয়
- পেরিকরোনাইটিস: আংশিক ওঠা দাঁতের উপরের মাড়ির নিচে খাবার ও জীবাণু জমে তীব্র ব্যথা, ফোলা ও পুঁজ
- পাশের দাঁতের ক্ষয়: বাঁকা আক্কেল দাঁত পাশের মোলারে চাপ দিয়ে সেখানে ক্ষয় তৈরি করে
- মুখ খুলতে না পারা (ট্রিসমাস)
- সিস্ট বা টিউমার: দীর্ঘদিন হাড়ের ভেতর আটকে থাকলে বিরল ক্ষেত্রে সিস্ট তৈরি হতে পারে
- দুর্গন্ধ ও বাজে স্বাদ
সব আক্কেল দাঁতই কি তুলতে হয়?
না। যে আক্কেল দাঁত সম্পূর্ণ ও সোজাভাবে উঠেছে, ঠিকমতো পরিষ্কার করা যায় এবং কোনো সমস্যা করছে না — সেটি রেখে দেওয়াই ভালো। শুধু সমস্যা তৈরি করলে বা ভবিষ্যতে করার স্পষ্ট আশঙ্কা থাকলে তোলা হয়। এক্স-রে দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সার্জারি কীভাবে হয়
- এক্স-রে: শিকড়ের অবস্থান ও নিচের চোয়ালের স্নায়ুর সাথে দূরত্ব নির্ণয়
- অ্যানেস্থেসিয়া: সম্পূর্ণ অবশ করা
- মাড়ি উন্মুক্ত করা: প্রয়োজনে ছোট ছেদ দিয়ে দাঁত পর্যন্ত পৌঁছানো
- দাঁত অপসারণ: প্রয়োজনে দাঁতটি কয়েক টুকরো করে বের করা হয় — এতে হাড়ের ক্ষতি কম হয়
- সেলাই: ক্ষতস্থান বন্ধ করা; ৭ দিন পর সেলাই কাটা হয়
সার্জারির পর
প্রথম ২–৩ দিন গাল ফোলা ও মুখ খুলতে অসুবিধা স্বাভাবিক — এটি নিরাময় প্রক্রিয়ারই অংশ। বরফ সেঁক (প্রথম দিন), নির্ধারিত অ্যান্টিবায়োটিক ও ব্যথানাশকের সম্পূর্ণ কোর্স, নরম-ঠান্ডা খাবার এবং দ্বিতীয় দিন থেকে লবণ-পানির কুলি — এই নিয়ম মানলে দ্রুত সেরে ওঠে। ৫–৭ দিনের মধ্যে বেশিরভাগ রোগী স্বাভাবিক হয়ে যান।