দাঁত তোলা সবসময় শেষ বিকল্প। আমাদের প্রথম চেষ্টা থাকে ফিলিং, রুট ক্যানেল বা ক্রাউন দিয়ে দাঁতটি বাঁচিয়ে রাখা। কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে তোলাই সবচেয়ে নিরাপদ সিদ্ধান্ত।
কখন দাঁত তুলতে হয়
- দাঁত এতটাই ক্ষয়ে গেছে যে মেরামত করা সম্ভব নয়
- শিকড় বরাবর ফেটে গেছে
- মাড়ির রোগে দাঁত অত্যধিক নড়ে গেছে
- ব্রেসেসের জন্য জায়গা তৈরি করতে
- আক্কেল দাঁত সঠিকভাবে উঠতে না পেরে সমস্যা তৈরি করলে
- দুধ দাঁত সময়মতো না পড়ায় স্থায়ী দাঁতের পথ আটকে থাকলে
প্রক্রিয়া
প্রথমে এক্স-রে করে শিকড়ের আকৃতি দেখা হয়। এরপর লোকাল অ্যানেস্থেসিয়া দিয়ে দাঁত ও আশপাশের মাড়ি সম্পূর্ণ অবশ করা হয় — আপনি চাপ অনুভব করবেন, কিন্তু ব্যথা নয়। দাঁতটি আলগা করে সাবধানে তুলে আনা হয়, তারপর জায়গাটি পরিষ্কার করে গজ দিয়ে চাপ দেওয়া হয়। প্রয়োজনে সেলাই দেওয়া হয়।
দাঁত তোলার পর করণীয়
প্রথম ২৪ ঘণ্টা
- গজটি ৩০–৪৫ মিনিট শক্ত করে কামড়ে ধরুন
- কুলি করবেন না, থুতু ফেলবেন না — রক্ত জমাট বাঁধা নষ্ট হয়ে যাবে
- স্ট্র দিয়ে কিছু পান করবেন না, ধূমপান করবেন না
- বাইরে থেকে গালে বরফ সেঁক দিন (১০ মিনিট করে)
- ঠান্ডা ও নরম খাবার খান; গরম খাবার এড়িয়ে চলুন
- মাথা কিছুটা উঁচু করে শুন
দ্বিতীয় দিন থেকে
- কুসুম গরম পানিতে সামান্য লবণ দিয়ে দিনে ৩–৪ বার হালকা কুলি করুন
- ক্ষতস্থান বাদ দিয়ে বাকি দাঁত স্বাভাবিকভাবে ব্রাশ করুন
- নির্ধারিত অ্যান্টিবায়োটিক ও ব্যথানাশক সম্পূর্ণ কোর্স শেষ করুন
দাঁত তোলার পর ফাঁক পূরণ
দাঁত তোলার ফাঁক দীর্ঘদিন ফেলে রাখলে পাশের দাঁত হেলে পড়ে ও হাড় ক্ষয় হয়। নিরাময়ের পর (সাধারণত ২–৩ মাস) ইমপ্লান্ট বা ব্রীজ দিয়ে ফাঁকটি পূরণ করার পরিকল্পনা করুন।